প্রতিবেদন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতিবেদন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

প্রতিবাদহীন,

২৩ দিন ধরে রাজপথে হবু শিক্ষকেরা অনশনে বসেছেন। কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। না সরকারের, না প্রশাসনের। না থাকারই কথা। অগণতান্ত্রিক সরকার সবসময় ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ রাখতে চায়। তারা চায় স্থিতি। প্রতিটি বুর্জোয়া সরকার, গণতন্ত্রের নামে শুধুমাত্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে। সেই ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে পুলিশকে ঘুষখোর তৈরী করে। আমলারা সকাল হলেই ক্ষমতার চরণামৃত আর বিকেলে পদধূলি নেবার জন্য হত্যে দিয়ে পড়ে থাকে। মুষ্টিমেয় পুরস্কারলোভী বুদ্ধিজীবি মুখে ফেভিকল লাগিয়ে সরকারি পদ আঁকড়ে বসে থাকে আর সরকারী বিজ্ঞাপন যাতে হাতছাড়া না হয়, তাই বুর্জোয়া সংবাদপত্রের ক্যামেরা উঁকিঝুঁকি মারে সিনেমামহলের অন্দরমহলে। যদি কিছু নতুন লোভনীয় কেচ্ছাকাহিনী দিয়ে পাতা ভরানো যায়।

এটাই স্বাভাবিক। তাই সরকারী পদাধিকারী গুণ্ডাদের থানা থেকে লুঠ করার জন্য মধ্যরাত্রে থানায় হামলা করে। পুলিশ টেবিলের তলায় লুকিয়ে পড়ে। পার্কস্ট্রিটে নির্যাতিতার লাঞ্ছনাকারীদের বাঁচাতে বলে ওসব নাকি খদ্দেরের সাথে বচসার ফলাফল। ক্যামেরার সামনে দু'হাত মেলে ঘুষ নেবার ছবি জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়ার পরেও তারা বেহায়ার মতো ফ্যাক-ফ্যাক করে হাসে আর বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ায়। পরবর্তীকালে তাদের নতুন নতুন পদাধিকারী হতে কিংবা হাতজোড় করে ভোট চাইতে লজ্জা হয় না।

এগুলো কোন নতুন চরিত্র কিংবা নতুন নাটক নয়। বরং সুযোগমতো চরিত্র পালটে ফেলাটাই বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলের আসল মুখ। মুখোশটা শুধু আমরা নির্বাচন মিটে যাবার আগে পর্যন্ত দেখি।

তাই নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগে ২৫ দিন ধরে একদল শিক্ষিত যুবক-যুবতী অনশন করতে হয়। শিক্ষায় আর শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতিটাই একমাত্র নীতি। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সময় ঘুষ দিয়েও শিক্ষকতার চাকরি না পেয়ে চাকরিপ্রার্থী আত্মহত্যা করেছেন। চাকরি পাবার জন্য হবু মাস্টারেরা লাখ-লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন নিজ-নিজ অঞ্চলের সভাপতিদের কিংবা জেলার রাজনৈতিক নেতাদের। অভিযোগ উঠেছে, দলবদল করা রাজনৈতিক নেতার আত্মীয় চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন রাতারাতি।

এগুলো কি কোন নতুন খবর? এতে অবাক হবার কিছু আছে কি? না, নেই। অবাক যেটা হতে হচ্ছে সেটা হল সাদাচোখে দেখেও, এতসব জেনেও, সবকিছু বোঝার পরেও এ রাজ্যের মানুষ কি অস্বাভাবিক রকমের নির্বিকার। যারা প্রতিবাদ করছে, তাদের প্রতি কি হিমশীতল অবজ্ঞা। সারা রাজ্যের কেমন মানুষের কি অসীম নির্লিপ্তি। তারা রঙ মাখছে, আই-পি-এল দেখছে, নতুন কি মোবাইল ফোন বাজারে এল তার খোঁজে সারাবিশ্ব চষে ফেলছে কিংবা চৈত্রসেলের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। কি ভয়াবহ এই নৈঃশব্দ। কি আত্মঘাতী এই পর্বতপ্রমাণ উদাসীনতা। 

এতসবের পরেও রাগ হয় না! আর কতদিন একমুঠো সরকারি প্রতিদানের ( নাকি ভিক্ষা! ) আশায় এমনভাবে প্রতিবাদহীন মৃতদেহের মতো বেঁচে থাকা যায়। মিডিয়া, সংবাদপত্র তো কবেই ক্ষমতার দালাল হয়ে গেছে। তবু কবে তারা সেই প্রতিবাদের ছবি দেখাবে তার পরে আমরা বুঝব আমরা প্রতিদিন আরো কতটা তলিয়ে যাচ্ছি? আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরো কতটা প্রাণহীন, নির্জীব সমাজের দিকে ঠেলে দিচ্ছি? তার চেয়ে আমরা প্রত্যেকে গলা ফাটিয়ে বলতে পারি না যে রাষ্ট্র যা দেখাবে, যা শোনাবে, যা জানাবে তার বাইরেও অন্য একটা সত্যি আছে।


এবার আমাদের "জনগণ" এই শব্দবন্ধের বাইরে বেরিয়ে এসে নিজেদের অস্তিত্ত্ব বোঝানোর সময় এসেছে। তাই প্যারিসের রাস্তায় "ইয়েলো ভেষ্টের" আন্দোলনকে ফরাসি সরকার দমাতে পারে নি। মহারাষ্ট্রের কৃষক আন্দোলন সরকারের দাঁড়ানোর মাটি ধসিয়ে দিয়েছে। আর্মেনিয়ার জনআন্দোলন সে দেশের ৩৩ বছরের রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। তারা আর দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারী শাসকের বরদাস্ত করবে না। নিকারাগুয়ায় আন্দোলনকারীদের গুলি করে মারার প্রতিবাদে ২০ বছরের শাসকে সিংহাসন থেকে টেনে রাস্তায় নামিয়েছে। থাইল্যান্ডের মানুষ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। এমনকি বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার জন্য রাশিয়ার মানুষ পথে নেমেছে। শ্রমিক, কৃষক, মজদুর, ছাত্র নির্বিশেষ আমাদের এবার পথে নামতে হবে। মানতেই হবে

কবি মন্দাক্রান্তা সেনের কথার রেশ টেনে বলছি "আপনারা রেগে যান, প্লিজ, ভয়ঙ্কর রেগে যান। রাগে এ রাজ্যে




কারন নই-রাষ্ট্রবাদী

পরিযায়ী শ্রমিকঃ তোমরা কি এদেশেরই মানুষ!

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এক ভীষণ টানাপোড়েন চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে রাজ্যগুলোর রাজধানী আর বড়-মাঝারি শিল্পতালুকগুলিতে যেখানে প্রায় ২০ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক তাদের পরিবারসুদ্ধ আটকে পড়েছেন গত দু’মাসের বেশী সময় ধরে।

লকডাউন শুরু হওয়ামাত্র সরকার প্রথমেই তাদের আটকে দিল কি না তারা ফিরে গেলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পারে। বাস, ট্রেন বন্ধ হয়ে গেল। তবু কেউ কেউ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিল নিজের গ্রামের দিকে। যা থাকে কপালে। হাজার হাজার মাইল পায়ে হেঁটে তাদের অনেকেই পৌঁছাল। আবার অনেকের ক্ষীণ প্রাণটুকু অনাহারে, অবহেলায় শেষ হয়ে গেল রাস্তাতেই। যারা আটকে পড়ল তারা আধপেটা খেয়ে, পুলিশের লাঠি খেয়ে, নিত্য অপমান সয়ে কোনরকমে প্রাণটুকু জিইয়ে রাখল।

শেষমেশ এতদিন পরে সরকার হটাৎ জেগে উঠেছে। অনেক সাধ্য-সাধনার পর রাজী হল কিছু ট্রেন চালানোর। কিন্তু ভ্রমণের ভাড়া দেবে কে?

পুতুলনাচ


সবাই তো আর খারাপ নয়, কেউ কেউ খারাপ -এইসব সোহাগী কথাবার্তার দিন বোধহয় শেষ। নারদকান্ডের ভিডিওতে এতগুলো মন্ত্রী-সাংসদ-পুলিশ থুতু লাগিয়ে টাকা গুনে গুনে নিল, সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার পরও সরকার আর পুলিশ কিছুতেই দেখতে পেল না। সবাই ভেবেছিল, সাধারণ মানুষের আর বিরোধী দলের অভিযোগ থানায় জমা পড়লে যা ভবিতব্য হয় এবারেও তাই হবে। অভিযোগ জমা পড়লেই “নীলরঙা” পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে থানা চত্বরের ধুলো মাখিয়ে সেই অভিযোগপত্রের কাগজগুলিকে কোথায় যে রেখে দেবে, সেগুলো নাগিনার নায়িকাও খুঁজে পাবে না। তবে সিবিআইয়ের পাল্লায় পড়ে তেনাদের এখন নিয়মিত দপ্তরে গিয়ে ধর্ণা দিতে হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগঃ কোথায় এসে আমরা দাঁড়িয়েছি?


প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবার কয়েকদিন পরেই একটি মর্মান্তিক খবর আমরা সবাই পড়েছি দক্ষিণ দিনাজপুরের এক শিক্ষকের চাকরি প্রার্থী, যিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক দলের একজন সদস্য, তবু কয়েক লক্ষ টাকা নাকি দিয়েছিলেন স্কুলের চাকরি জোগাড় করার জন্য বলাবাহুল্য টাকাটি তিনি কাউকে দান করেন নি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পাবার জন্য ঘুষ দিয়েছিলেন ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার ব্যাপারটা আজকাল হামেশাই শোনা যায় অমুক চাকরির জন্য এত টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে, তমুক আধিকারিক ঘুষ নিতে গিয়ে বামাল ধরা পড়েছেন মাঝে মাঝেই কাগজে রেল-দপ্তরের বিজ্ঞাপনও দেখা যায় কেউ যেন মনে না করেন ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়া যায় ইত্যাদি, ইত্যাদি যদিও কোনটা যে সত্যি সেটা এখন আর কাউকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হয় না
এটা কোন অবিশ্বাস্য খবর নয় যে কেউ কেউ ঘুষ দিয়ে চাকরি পান কোন কোন ক্ষেত্রে সঠিক পাদপদ্মে নৈবেদ্য পৌঁছে দিতে পারলেই নাকি চাকরি পাওয়া যায় সে সরকারি কিংবা বেসরকারি - সব ক্ষেত্রেই হয় সরকারি ব্যাপারে লোকে একটু বেশী উদ্বেল কিংবা উত্তেজিত হয়ে পড়েন কারণ জনসাধারণের ধারণা সরকারি টাকা জনগণের টাকা তাই সরকারি চাকরিতে সবারই নীতিগতভাবে সমান অধিকার কেউ ঘুষ দিয়ে পেয়ে গেলে গাত্রদাহ হবারই কথা। বেসরকারি চাকরি পাওয়ার জন্যও লোকে ঘুষ দেয় তবু সেটা নিয়ে লোকে মাথা ঘামায় না যেন বেসরকারি ক্ষেত্রে যারা ঘুষ নেয় কিংবা দেয় তারা কেউ চরিত্রহীন নয় বেসরকারি টাকায় কি তবে ন্যায়-নীতির বালাই নেই!

টাকা মাটি, মাটি...

সময়ঃ ৮ই নভেম্বর, ২০১৬, রাত ৮টা -

আজ রাত ১২টার পর থেকে হঠাৎই ৫০০ আর ১০০০ টাকার বড় বড় নোটগুলো সাদা কাগজ হয়ে গেল। দেশের যতো চোর, ছ্যাঁচোড় আর কালা-ধনের কারবারিদের মাথায় হাত। মোদীভাই একি করলেন! কাকপক্ষীতে ঘুণাক্ষরে জানতেও পারলো না! দশভরি সোনার চেন আর বি-এম-ডব্লু নিয়ে ঘুরে বেড়ানো টাকার কুমীরদের ঘুম ছুটে গেল। সিন্দুকে গুছিয়ে রাখা তাড়া তাড়া কড়কড়ে পাঁচশো-হাজার টাকার নোটগুলো কয়েক ঘন্টায় স্রেফ হাতমোছার ন্যাপকিন কিংবা ছোলা-বাদামের ঠোঙা হয়ে গেল। 

রাজনের পদত্যাগঃ কয়েকটি ভাবনা

কলিকালের অসুরদের জ্বালায় দেশের সর্বোচ্চ সভাঘর থেকে আরো একবার ইন্দ্রের মহাপ্রস্থান হলো। এ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ পদাধিকারী এই মানুষটি এককথায় বলিউডের কোন নায়কের থেকে কিছু কম যান না। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর অর্থনৈতিক জগতে যাঁরা ঘোরাফেরা করেন, তাঁরাও এই আগাগোড়া উচ্চশিক্ষিত ও মহিমান্বিত ডিগ্রির অধিকারী মানুষটিকে একডাকে চেনেন তো বটেই, আমাদের দেশে “দালাল স্ট্রীটের রজনীকান্ত” বলেও এনার পরিচিতি কম নয় 

এই তো! এতক্ষণে সবাই হাত তুলে ফেলেছেন। ঠিক তাই, তিনি আমাদের এক ও একমাত্র রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শ্রী রঘুরাম রাজন ( ট্যুইটারে লোকে ভালোবেসে বলেন R3)না চেনার কোন কারণ নেই। গত তিন বছরে দেশে-বিদেশে এমন কোন অর্থনৈতিক অথবা ব্যবসা সংক্রান্ত পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হয় নি, যেখানে প্রায় প্রতিটি সংখ্যায় কোন না কোন কারণে তাঁর ছবি অথবা বক্তব্য ছাপা হয় নি।

সাধু সাবধান!

বেশ কিছুদিন ধরে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন! যত বেশী সরকারী হাসপাতাল চালু হচ্ছে, খবরের কাগজে বেসরকারী হাসপাতাল আর নার্সিংহোমের বিজ্ঞাপনের সংখ্যা ধারাবাহিক ভাবে বেড়েই চলেছে। অনেকে অজানা অনেক নতুন নতুন রোগের খবর জানাচ্ছেন। কেউ কেউ বিনামূল্যে উপদেশ দিচ্ছেন। কেউ আবার শরীরে মারাত্মক ক্ষতবিক্ষত ছবি সহ ভয় দেখাতে শুরু করেছেন। রক্ত, থুতু থেকে শুরু করে হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, নাক, চোখ, গলা সবসুদ্ধু বারবার পরীক্ষা করাতে বলছেন। আর তা না হলে? আপনার এই রোগটি হবে, ওই অঙ্গটি বাদ যাবে কিংবা সেই অঙ্গটি পচে যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে পরীক্ষা করালে ২০% ছাড়। একটি অঙ্গের পরীক্ষা করানোর পরে দ্বিতীয় অঙ্গের পরীক্ষায় ৫০% ছাড় পাবেন। আরো কত কি। 

মনে হয় না হটাৎ করে বেসরকারী হাসপাতাল আর নার্সিংহোমগুলি এত জনদরদী কিংবা মানবদরদী হয়ে গেল কেন? লাখ-লাখ টাকা খরচ করে দেশের বহুল প্রচারিত খবরের কাগজের পাতার পর পাতা জুড়ে প্রতিদিন বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। শুধুই কি আমার-আপনার ভালোর কথা ভেবে

সারমেয় সংবাদ

দিন কয়েক আগে কলকাতার একটি আবাসনে সে কি ধুন্ধুমার কাণ্ড। একদিন রাত্রে বেশ অনেকগুলি রাস্তার কুকুরকে কে বা কারা নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। তারপর থেকে সারমেয়প্রেমীদের তুমুল বিক্ষোভ, থানায় একাধিক ডাইরি হয়েছে। আবার এদিকে কুকুরের কামড়ে ভুক্তভোগীদের পালটা বিক্ষোভ চলছে।

তবে এই রকম ঘটনা শুধুমাত্র এই কলকাতা শহরের সমস্যা নয়। এদেশের প্রতিটি ছোট-বড় শহরেই এটি একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু যদি জিজ্ঞেস করা হয় মানুষের ভাল বন্ধু কে আছে? একবাক্যে সারমেয়র নাম প্রথমে আসবেই আসবে। অন্যদিকে আমাদের প্রত্যেকেরই রাস্তার কুকুরের তাড়া খেয়ে পড়িমরি করে দৌড়ানোর কিংবা কামড় খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছেই আছে। আমাদের দেশের সর্বত্রই আছে। কেরালাতেও আছে।
 

মহিষাসুর

নতুন দেশে বেড়াতে গিয়ে মানুষ চিনতে হলে অনেকেই স্থানীয় কাগজে পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপন পড়েনওই বিজ্ঞাপনের ভাষার মধ্যে কিছুটা হলেও খুঁজে পাওয়া যায় সে দেশের মানুষের শিক্ষা-সংস্কৃতি, আশা-আকাঙ্ক্ষা। সাথে মুখদর্শন হয় সমাজ-চরিত্রের। 

এদেশে, সকালে কাগজ খুললেই একদলা কাদা-পাঁক মুখের উপর ছিটকে এসে পড়ে। কি সেই সমাজ-চিত্র! ঘুম থেকে উঠে দিন শুরু হয় হিংসা, রক্তপাত আর কিছু নরাধমের ইতরামির সচিত্র বিবরণ পড়ে। কাগজের পাতায় পাতায় শুধু ‘মুঠোভর্তি’ ক্ষমতা দখলের নির্লজ্জ এক সমাজের ছবি। এক-আনা ক্ষমতায় দু’আনা অর্থ হাসিল। সেই দু’আনা অর্থে আট-আনা ক্ষমতা কেনা চাই। শুধু চক্রাকারে বাড়তে থাকে লোভ আর কমতে থাকে জীবনের দাম। কেউ ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে হিসেব বুঝে নিতে চায় আর কেউ উচিত শিক্ষা দেবার জন্য ঘরে লোক ঢুকিয়ে দেবার হুমকি দেয়।

বোতলবন্দী

পটল, ধেনো, পাত্তি, ল্যাংড়া, চুন্নু - নামগুলোকে বেশ চেনা চেনা লাগছে না! একদম ঠিক ধরেছেন। এদের যেমন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়, তেমনি অপরাধ জগতেও এই নামগুলো অতি পরিচিত। অনেকটা গরুর গায়ে এঁটুলির মতো সম্পর্ক।

তবে বেশীর ভাগ সময়ে এই নামগুলো জলহস্তীর মতো শুধু নাকটুকু জলের বাইরে থাকে, বাকিটা সুপ্ত। অন্ধকারের জীব। ব্যাতিক্রম, শুধুমাত্র ভোটের সময়টুকু। তবে অন্যসময় ওই যে নাকটুকু বেরিয়ে থাকে তাতেই জনজীবন অতিষ্ট হয়ে ওঠে। 

এরা সর্বত্রগামী। সকাল বেলায় রাস্তা কিংবা গলির মোড়ে। বেলা বাড়লে সব্জি বাজারের এক কোণায় একখানা ক্যারামের টেবিলের চারপাশে মাছিদের মতো ভনভন করে। বিকেলে সূর্যদেব বিশ্রামে গেলেই ভাঙা লাইটপোষ্টের নিচে বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আর একটু বেশী রাত হলে হয় অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে, দুর্গন্ধ ছড়ানো নালার গা ঘেঁষে চুল্লু মদের দোকানের পাশে গড়াগড়ি খায় আর নয়তো কারো সর্বনাশ করার ধান্দা খোঁজে।

প্রদীপের নীচে ‘আলো’


আবার চৈত্রমাস। আবার সর্বনাশ। আমাদের মতোই কারো ঘরে, সংসারে। দিল্লির অভিসার সিনেমা হল, পার্কস্ট্রীটের স্টিফেন কোর্ট, ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতাল আর সর্বশেষ বিবেকানন্দ উড়ালপুল। শুধু ‘সাধারণ’ মানুষের অবিশ্রান্ত মৃত্যুমিছিল। দগ্ধ, অর্ধদগ্ধ, থেঁতলানো মাংসপিন্ডের মধ্যে মিশে থাকা ‘সাধারণের’ দেহ। তার সাথে মিশে থাকে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া ঘর-সংসার, প্রেম-ভালোবাসা আর পরিবারের হৃদয়বিদীর্ণ আর্ত হাহাকার।
 
আর মৃত্যুযন্ত্রনার আর্তনাদে বাতাস যখন ভারী হয়ে এসেছে, কপোল বেয়ে অশ্রুধারা যখন কিছুতেই শুকোবে না বলে জেদ ধরেছে, তখন রাজনৈতিক নেতাদের খামচাখামচির

দিবস-মোহ


বারো মাসে তেরো পার্বণছাড়িয়ে এখন বছরের প্রতিটি দিনই হয় কোন দিবস কিংবা উৎসব। গতকাল শিশুদিবস ছিল, আজ ক্যান্সার দিবস কিংবা আগামীকাল উপভোক্তা দিবস উদযাপন করা হবে। অথচ নারীদিবসের দিনেই মধ্যপ্রদেশের একজন স্বামী (?) তার স্ত্রীকে দাঁড়িপাল্লায় তোলেন ঋণ পরিশোধ করার জন্য কিংবা দেশের একাধিক মন্দিরে প্রবেশাধিকারের দাবীতে পথে নেমে আন্দোলন করতে হয় নারীদের অন্যদিকে পরিবেশ দিবসের দিন নামকরা বহুজাতিক সংস্থার “বায়ুশোধনকারীযন্ত্রের বিজ্ঞাপন ঝলমল করে ওঠে স্বল্পবাস পরিহিতা নায়িকাদের ছবিতে

ছোবল

ভোট-নাট্য শুরু। আলুর দাম ঊর্ধ্বগামী। পেঁয়াজের কান্না কাঁদতে হবে ভোটের পরে। যে মজুতদারেরা ভোটের খরচ জোগাচ্ছেন তারা যে ত্যাগ ধর্মে বিশ্বাসী নন, হাড়েহাড়ে জানেন। কিন্তু নিরুপায়। হাঁড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে ছাগলেরও কিছু করার থাকে না।

ভবিষ্যত নিধির কর বিতর্কে সরকার পিছু হটেছে। অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ তৈরী করে, মেরুকরণের হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও জনগনকে কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না। সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাতাসে ছড়ানোর পরেও জনগনের নাভিশ্বাস উঠছে না। দেশপ্রেমের ধুয়ো তুলেও ছাঁচ-বন্দী ‘দেশপ্রেমী’ বানানো গেল না। শেষমেশ মুদ্রাস্ফীতির হার কমেছে, এই অজুহাতে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সুদের হার এক ঝটকায় অনেকটা কমিয়ে জনগনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের পালটা ছোবল মেরেছে।

বসন্ত এসে গেছে!

শীত বিদায় নিচ্ছে। ভোরবেলার বাতাসে একটু শিরশিরে ভাব। তাই ঘুমের ঘোরে চাদরটা গায়ে টেনে নিলে নিদ্রাভঙ্গের পরেও আরামের রেশটুকু মনে কিছুটা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু অফিস যাবার তাড়া। তাই সকালের কাগজটাকে বগলদাবা করে সোজা প্রাতরাশের টেবিলে।

কয়েকদিন ধরেই জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার করার পর থেকেই তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। এমন গনগনে আগুন, এদেশে, বিদেশে এমনকি এ-রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে তার আঁচ এসে পড়েছে। মাঝখান থেকে, যতদিন যাচ্ছে কে দেশপ্রেমিক আর কে যে নয়, সবকিছু যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হটাৎ! কেন?